আদর্শপ্রাণ জীবনে এত আনন্দ, তবু কেন মানুষ তা ছেড়ে বাজে ভােগসুখে মত্ত হয় ?

ইষ্ট না থাকলে মানুষের ইন্দ্রিয়গুলিও weak ( দুর্ব্বল ) ও sub-normal ( স্বাভাবিক অপেক্ষা ন্যূন ) হ’য়ে পড়ে, তাই খাওয়া-দাওয়াই হাে’ক বা sexual life ( যৌনজীবন )-ই হাে’ক—কোনটাই properly ( যথাযথভাবে ) enjoy ( উপভােগ ) করতে
পারে না। তাই সেদিক দিয়েও বঞ্চিত হয়। যার self-control ( আত্মসংযম ) নেই, সে
ভােগের বস্তু পেয়ে নিজেকে তার মধ্যে হারিয়ে ফেলে। যার নিজত্ব বজায় নেই, যে
নিজেই ‘নেই’ হয়ে গেছে, সে আর ভােগ করবে কি?
…দেখেন, সুখের ধারণা আমাদের কত বিকৃত হয়ে গেছে। মেয়ের বিয়ে যদি দিতে চাই—বরের বংশ ও ব্যক্তিত্বের
মেকদারের কথা বড় করে না ভেবে খুঁজি, কোথায় গেলে মেয়ে আমার রাজার হালে থাকবে, বামুন-চাকর, দাস-দাসী তার ফরমাস খাটবে, মাটিতে পা-টুকু ফেলতে হবে না, খাট-পালঙ্কে ব’সে হুকুম চালাবে। দুঃখ-কষ্ট, অভাব-অভিযােগের লেশমাত্র থাকবে না। কিন্তু একথা ভাবি না—দুঃখ-দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয় করুক,

ভিক্ষা করে স্বামীকে খাওয়াতে হয় তা খাওয়াক, শ্বশুর-শাশুড়ী, আত্মীয়-পরিজনের সেবায় একমুহূৰ্ত্ত বিশ্রাম না পায়, তা’ না পাক, তার উপর দিয়ে অগ্নিপরীক্ষা চলে, তা’ চলুক, কিন্তু সে যেন অটুট ইষ্টপ্রাণ সদ্বংশজাত উপযুক্ত ছেলের হাতে পড়ে।

তপস্যার ভিতর দিয়ে ছাড়া মানুষ বড়ও হয় না, সুখীও হয় না। অনেকদিন পরাধীন থেকে থেকে এই ধারণাটাই  আমাদের উবে গেছে। আমরা যে সুখ চাই, সে মানুষের সুখ নয়, পশুর সুখ। বাধাকে নিরােধ করে জয়ের নিশানা গড়ায় যে সুখ, সেই সুখই মানুষের কাম্য।

Leave a Reply