পাপ এর উৎস কি ?

মানুষ উৎসবিমুখ হয়ে উঠলে বৃত্তি তাকে চেপে ধরে। মানুষ বৃত্তি-অভিভূত হলে সত্তাপােষণী চলন থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ে, ঐ বৃত্তি সত্তারই রস নিঙড়ে
তা’ দিয়ে আত্মপুষ্টি করতে চায়। আমরাও বৃত্তি-সারূপ্য লাভ করে ঐ বৃত্তিকেই সত্তা মনে
করে তারই পুষ্টিসাধনে তৎপর হয়ে চলি। ফলে যা হবার তা হয়। পাপ মানে এমনতর
চলনা। ফলকথা, ঈশ্বর সৃষ্টি করলেও মানুষের ইচ্ছার উপর তার কোন হাত নেই।

তিনি নিজে যেমন স্বরাট, স্বাধীন, প্রত্যেককে তেমনি স্বরাট, স্বাধীন করে দিয়েছেন, কাউকে কম করে দেননি কিছু। প্রত্যেককে তার মত করে ভ’রে উজার করেই দিয়েছেন। এখন সে স্বেচ্ছায় তৎপ্রদত্ত সম্পদ যে-কোন দিকেই নিয়ােজিত করতে পারে।

এ নিয়ে সে তঁন্মুখী চলনেও চলতে পারে, আবার তাকে অস্বীকার করে, তার দিকে পিছন ফিরিয়ে খেয়াল
ও ভােগােন্মত্ততার পিছনেও ছুটে চলতে পারে।

দুনিয়ার দিকে চাইলেও এটা আমরা স্পষ্ট বােধ করতে পারি।

বাপের থেকে জন্মেও বাপের অবাধ্য হওয়ার স্বাধীনতা ছেলের আছে,
এ স্বাধীনতা থাকলেও, এ স্বাধীনতার সুযােগ গ্রহণ না করে যে পিতাকে মান্য করে
চলে—সদভিদীপনা নিয়ে, সেই-ই উন্নতি লাভ করে।

Leave a Reply